ইলিশ ধরা নিয়ে আক্ষেপ মৎস্যজীবীদের
কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক : আষাঢ় চলে গিয়ে পড়েছে শ্রাবণ মাস। খাদ্যরসিক বাঙালির পাতে ইলিশ পড়েনি। ইলিশ পছন্দ করা মানুষরা আশা করেছিলেন, লকডাউন পরিস্থিতিতে দূষণ কম হওয়ায় এই মরশুমে ইলিশের জোগান ভাল হবে। মৎস্যজীবীরাও এমনটাই মনে করেছিলেন। সূত্রের খবর, আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় ইলিশ তেমন ওঠেনি। এক্ষেত্রে মৎস্যজীবীরা আক্ষেপ করে জানিয়েছেন, সমুদ্রে প্রচুর ইলিশ থাকা সত্ত্বেও আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় ধরা সম্ভব হয়নি। একপ্রকার খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে।
এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ও মৎস্যজীবীদের বক্তব্য, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও পূর্বদিক থেকে বয়ে আসা হাওয়া ইলিশ ওঠার পক্ষে আদর্শ পরিবেশ। লকডাউন পর্ব চলাকালীন পূর্বদিক থেকে বাতাস বয়ে গিয়েছে। মাছ ধরার মরশুম শুরু হতেই উল্টো দিক থেকে হাওয়া বইতে শুরু করে। উল্লেখ্য, প্রায় ৪ হাজার ট্রলার রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়। এই সময় রোজই প্রায় ৩০০ ট্রলার সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। স্থানীয় সূত্রের আরও খবর, মাছ ধরার মরশুম শুরু হওয়ার পর প্রথমদিকে রোজ প্রায় ৫০ টন মাছ পাড়ে আসত। এখন তা কমে প্রায় ৪ টনে নেমে এসেছে। দিন- দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। পুবের হাওয়া বন্ধ হওয়ায় স্রোতও আসছে না।
আবার উপকূলবর্তী এলাকায় এবার বৃষ্টিও সেভাবে নেই। এক্ষেত্রে মিষ্টি জল না পেয়ে ইলিশ মোহনার দিকে প্রবেশও করছে না। পমফ্রেট ও চিংড়ির হদিশ পাচ্ছেন মৎস্যজীবীরা। সব মিলিয়ে ইলিশের জন্য হতাশ মৎস্যজীবীরা। কাকদ্বীপ ফিশারমেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সময় দক্ষিণ-পশ্চিমদিক থেকে বাতাস বইছে। এই বাতাস জলের স্রোতকে বাংলাদেশমুখী করে দিচ্ছে। মৎস্যজীবীদের আক্ষেপ, সব ইলিশ চলে যাচ্ছে ওপার বাংলায়। বঞ্চিত হয়ে পড়ছে এপার বাংলা।

